আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং বিনিয়োগকারীদের ঘোষিত লভ্যাংশ নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত ১৯ মে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১৪তম কমিশন সভায় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা আজ (২১ মে) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের এই জরিমানার অর্থ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায় হিসেবে নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হবে ।
২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পাঁচ পরিচালকসহ সাত কর্মকর্তাকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে । এর মধ্যে কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান এবং তিন পরিচালক—মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জেরিন কবির খানকে ২৫ লাখ টাকা করে ব্যক্তিগত জরিমানা করা হয়েছে । এছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় ।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্য প্রযুক্তি খাতের জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি ৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও তা নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় । লভ্যাংশ প্রদানে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে । দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল উদ্দিন, চার পরিচালক—চৌধুরী ফজলে ইমাম, প্রিন্স মজুমদার, ওরাকল সার্ভিসেস পিএলসি, নিলোফার ইমাম এবং তৎকালীন সিএফও ও কোম্পানি সচিব ।
আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (মোট ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা) ঘোষণা করে । তবে তারা ৬ কোটি ২৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিনিয়োগকারীদের না দিয়ে আইন লঙ্ঘন করে । কমিশন আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এই বকেয়া লভ্যাংশ পরিশোধের চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ।
যদি এই বর্ধিত সময়েও তারা বণ্টন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সময় পার হওয়ার পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা করে এবং তিন পরিচালক—খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে । এছাড়া তৎকালীন সিএফও-কে ১০ লাখ এবং কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে । নির্ধারিত সময়ে এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ হবে, তবে এই জরিমানার কারণে কোম্পানি লভ্যাংশ পরিশোধের দায় থেকে রেহাই পাবে না ।













