দেশীয় হাই-টেক শিল্পের বিকাশ, ব্যাংকিং খাতের ক্যাশলেস রূপান্তর এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ নিয়ে প্রযুক্তি পণ্য বিশ্বের দরবারে রপ্তানি করার লক্ষ্যে আইটি হার্ডওয়্যার খাতে বড় শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভ্যন্তরীণ স্মার্ট ও এটিএম কার্ড উৎপাদন শিল্পকে স্বাবলম্বী করতে এই বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধার রূপরেখা উন্মোচন করেন। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নতুন বিনিয়োগের জোয়ার আনাই সরকারের এই করনীতির মূল লক্ষ্য।
নতুন বাজেটের সুনির্দিষ্ট কর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সব ধরনের স্মার্টকার্ড, ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং সিকিউরিটি কার্ড উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ১০টি অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি বিভিন্ন নাগরিক সেবার জন্য দেশে ক্যাশলেস স্মার্টকার্ডের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে, যার সিংহভাগই আগে চড়া মূল্যে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এই শুল্ক মওকুফের ফলে দেশীয় হাই-টেক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আন্তর্জাতিক মানের কার্ড দেশেই তৈরি করতে পারবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা বা ব্যবহারকারী হওয়া নয়, বরং নিজস্ব প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর হওয়া। তথ্যপ্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, কাঁচামালের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা প্রত্যাহার করায় কার্ড উৎপাদন খরচ এক লাফে অনেক কমে আসবে। ফলে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা কার্ডের খুচরা মূল্য সাধারণ গ্রাহক ও ব্যাংকগুলোর জন্য যেমন সাশ্রয়ী হবে, তেমনি এই খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।













