দেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে এ খাতে ঋণের সীমা কম থাকলেও নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অটো লোন’ নিতে পারবেন। এই ঋণের ক্ষেত্রে ডেট-ইকুইটি অনুপাতও অনেক বেশি সুবিধাজনক করা হয়েছে। এখন থেকে হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০:২০ অনুপাতে ঋণ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, ১ কোটি টাকা দামের একটি গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে ৮০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে এবং গ্রাহককে নিজের থেকে দিতে হবে মাত্র ২০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, প্রচলিত বা সাধারণ জ্বালানিচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে。 সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাত হবে ৬০:৪০। অর্থাৎ, একই দামের প্রচলিত গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক ৬০ লাখ টাকা ঋণ দেবে এবং গ্রাহককে বাকি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সদস্যের নামে নেওয়া অটো লোনও ওই ব্যক্তির মোট ঋণসীমার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গাড়ি কেনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও দ্বিগুণ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে একজন গ্রাহক ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ২০ লাখ টাকা। ক্রমবর্ধমান মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তাপণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই ঋণের সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে ব্যাংক থেকে নেওয়া ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে থাকা জমা টাকার লোন এই সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, জামানতবিহীন ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিতে পারবেন। তবে যথাযথ জামানত সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। তবে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভোক্তা অর্থায়ন বা কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিং খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই ব্যাংকের মোট ঋণ প্রবৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা দেশে ক্রমাগত বাড়ছে। গ্রাহকদের এই পরিবেশবান্ধব যান কেনায় আরও বেশি আগ্রহী করতেই মূলত এই বড় ধরনের ঋণ সুবিধা ও শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনার মাধ্যমে আগের এ সংক্রান্ত যাবতীয় পুরনো নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।











