কোরবানির পশুর দাম যেখানে গত এক দশকে অন্তত পাঁচ গুণ বেড়েছে, সেখানে জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত চামড়ার দাম উল্টো তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এক যুগ আগে যেখানে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে দীর্ঘ পতন শেষে আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে নামমাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২-৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থাৎ এক যুগে পশুর দাম ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও চামড়ার দাম কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য পশুর চামড়ার এই নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ঢাকা মহানগরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এই দাম প্রতি বর্গফুটে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২-২৫ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩-১৪ সালে দেশে খাসির চামড়ার বর্গপ্রতি দাম ছিল ৫০-৫৫ টাকা। এক যুগের ব্যবধানে খাসির চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি জানান, চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে সরকার এ বছর ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে সরবরাহ করবে। তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে চামড়া পচে নষ্ট হওয়ার যে সংকট আমরা দেখেছি, তা রোধে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদ্রাসার মাধ্যমে চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, চামড়া সংরক্ষণে মাঠ পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের ডেকে এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানো ও লবণের ব্যবহারের ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবেন।
মূলত চামড়া পাচার রোধ এবং মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি থাকবে বলে সভায় জানানো হয়। তবে রফতানি বাজারে মন্দা এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে এই সামান্য দর বৃদ্ধি তৃণমূল পর্যায়ে কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কতটা লাভবান করবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পশুর চামড়া যেন কোনোভাবেই জাতীয় বর্জ্যে পরিণত না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন লবণের সহজলভ্যতা ও দ্রুত সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।











