ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় ধরনের আইনি শাস্তির মুখে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেড। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোট ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আজ বুধবার (১৩ মে) কমিশনের নিয়মিত সভায় এই কঠোর জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন জানিয়েছে, ২০২২ সালে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের বকেয়া লভ্যাংশ এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বকেয়া লিস্টিং ফি পরিশোধ করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে জরিমানার এই বিপুল অর্থ কমিশনকে প্রদান করতে হবে।
বরিশালের বিএসসিআইসি শিল্পনগরে অবস্থিত শতভাগ জুতা রপ্তানিকারক ফরচুন সুজ ২০২১-২২ হিসাববছরের জন্য মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ১০ শতাংশ ছিল নগদ। নিয়ম অনুযায়ী নগদ লভ্যাংশ বাবদ ১৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিএসইসি জানিয়েছে, ঘোষিত লভ্যাংশের প্রায় ২৫ শতাংশ বা ৩.৯৮ কোটি টাকা এখনো অপরিশোধিত রয়ে গেছে। দীর্ঘ চার বছরেও বিনিয়োগকারীদের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ায় বকেয়া লভ্যাংশের প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
লভ্যাংশ ছাড়াও ডিএসইর লিস্টিং ফি পরিশোধেও চরম অনিয়ম করেছে কোম্পানিটি। গত তিন বছর ধরে লিস্টিং ফি বাবদ ১৮.২৯ লাখ টাকা বকেয়া রেখেছে ফরচুন সুজ। এই বকেয়াও আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লভ্যাংশ ও স্টক এক্সচেঞ্জের বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতার দায়ে ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে এককভাবে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পরিচালক মো. আমানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, খসরুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকসানা রহমানকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে কোম্পানির সিএফও জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা এবং সাবেক ও বর্তমান দুই কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে।











