মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী বিকাশ, নগদ ও রকেটের গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারী সেবামূল্য (সার্ভিস চার্জ) কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাত পরিচালনার জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রবিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
একটি জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব রিটটি দায়ের করেন এবং নিজেই আদালতে শুনানি করেন।
রুলে অর্থ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এই খাত পরিচালনার জন্য পৃথক ও সমন্বিত আইন নেই। ফলে সেবামূল্য নির্ধারণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর অভাব রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন, কেন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জন্য একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হবে না।
প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে মোবাইল আর্থিক সেবার সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষা, সেবাদাতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সেবামূল্যকে যৌক্তিক, ন্যায্য ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং যাদের প্রচলিত ব্যাংকিং সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নেই, তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সেবামূল্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতে বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর, ক্যাশ-আউট, বেতন-ভাতা বিতরণ, বিল পরিশোধ এবং সরকারি বিভিন্ন ভাতা বিতরণেও এসব সেবা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হাইকোর্টের এ রুলের মাধ্যমে এমএফএস খাতে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আইনি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।













