নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণসংক্রান্ত জটিলতা ও খেলাপি হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে অবশেষে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে চলা আলোচনাকে ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার পূর্বতন প্রতিষ্ঠান আজ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফও চাওয়া হয়নি।
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, তিনি অতীতে যে গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব ‘লিড সার্টিফাইড’ ফ্যাক্টরিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটি এক দিনের জন্যও এক্সপোর্ট বা রপ্তানি বন্ধ করেনি। এমনকি কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনও কখনো বকেয়া পড়েনি। পুরো জটিলতার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিশেষ তহবিল বা প্রজেক্টের অর্থায়নসংকট দায়ী ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ওই আন্তর্জাতিক গ্রিন ফ্যাক্টরিটির প্রথম স্যাংকশন বা ঋণ অনুমোদন হয়েছিল একটি প্রজেক্টের আওতায়, যেখানে সুদের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হঠাৎ জানায় যে ওই বিশেষ ফান্ডের টাকা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ৪ শতাংশের পরিবর্তে ৯ থেকে ১১ শতাংশ চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়।
হঠাৎ সুদের হার এভাবে প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় আগের প্রজেকশন বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুসারে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি এবং সাময়িক ডিলে বা বিলম্ব হয়েছে। তবে গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, ওই প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করে দিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যেন একটি সফল প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা না হয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।













