দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজাল থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে মুক্ত করতে একটি বৈপ্লবিক ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন ব্যবসা শুরু এবং লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সহজ করার লক্ষ্যে সমন্বিত ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’ বা একক বাতায়ন ব্যবস্থা চালুর এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। নতুন এই ডিজিটাল কাঠামোর ফলে আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই দেশের ব্যবসায়িক ও শিল্পায়নের লাইসেন্সিং পদ্ধতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার ফলে এখন থেকে নতুন কোনো কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র, ভূমি নিবন্ধন, নির্মাণ অনুমোদন এবং নকশা অনুমোদনের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র সাধারণ প্ল্যাটফর্ম থেকেই পেয়ে যাবেন। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন সরকারি দপ্তরে দিনের পর দিন আর ফাইল হাতে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না এবং এক জানালার সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুরোপুরি অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক কালক্ষেপণের কারণে কোনো কোম্পানির মূলধন যেন আটকে না থাকে, তা আইনি গ্যারান্টির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার ফলে লাইসেন্স পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা যেমন তাৎক্ষণিকভাবে হ্রাস পাবে, তেমনি সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন স্তরে অনৈতিক লেনদেন, ফাইল আটকে রাখা এবং ঘুষের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সরকারের এই দূরদর্শী ও প্রগতিশীল সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্রুত উন্নত হবে। তবে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশের শোচনীয় পর্যায়ে অবরুদ্ধ থাকায় এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের তীব্র তারল্য সংকটের বাস্তবতায়, দেশব্যাপী অটোমেশন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল অবকাঠামো সময়মতো গড়ে তোলাই হবে নতুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল চ্যালেঞ্জ।













