নতুন বাজেটের ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের অগ্নিপরীক্ষা

Web Photo Card June 11 2026 BangladeshBudget2026

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে সাময়িক ও কৃত্রিম চটকদার সুবিধার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। মূলত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই সামষ্টিক কৌশল ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে দীর্ঘ দেড় দশকের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক অন্তর্ভুক্তির এই যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার প্রথম অগ্রাধিকার হলো সর্বজন, সর্বশ্রেণি, সর্বখাত ও সকল অঞ্চলের সুষম অংশীদারিত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা । দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খাতের অধীনে দেশের তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বাস্তবমুখী দক্ষতা-নির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসার এবং সবার জন্য মানসম্মত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোড়া পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ।

এছাড়া, দেশের সব স্তরের নাগরিককে একটি সুসংগঠিত জীবনচক্রভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রের কাঠামোর অধীনে আনতে ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’ বলয় গড়ে তোলাকে তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার । অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে বেগবান করতে চতুর্থ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষিকে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ওপর ।

সরকারি কাজে আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ পরিহার করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ বিনির্মাণে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’ নিশ্চিত করাকে পঞ্চম অগ্রাধিকার করা হয়েছে । এর পাশাপাশি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পুঁজিবাজারের আমূল সংস্কারের বিষয়টিকে ষষ্ঠ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে ।

উৎপাদনশীল খাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ গড়ে তোলাকে সপ্তম অগ্রাধিকারের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে । দেশের তরুণদের কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশকে করা হয়েছে অষ্টম অগ্রাধিকার ।

নবম অগ্রাধিকার হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সবুজ বিপ্লব এবং নদীসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্রে আনা হয়েছে । সর্বশেষ তথা দশম অগ্রাধিকার হিসেবে মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দক্ষ ও কার্যকর সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে ।

তবে অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত এই ১০টি অগ্রাধিকার খাতের সফল বাস্তবায়ন বহুমুখী রাজস্ব আদায়ের তীব্র সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, বিশেষ করে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের প্রকৃত বাস্তবতায় । বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের হার বেড়ে ৩৫.৭৩ শতাংশ বা প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার রেকর্ডে দাঁড়িয়েছে এবং কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশের শোচনীয় পর্যায়ে অবরুদ্ধ ছিল ।

এই চরম স্থবিরতার বাস্তবতায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা একপ্রকার বড় চ্যালেঞ্জ ।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top