অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলাতান্ত্রিক বৈষম্য এবং তীব্র মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন গণতান্ত্রিক সরকার এই বিশাল অংকের মানবিক বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এই বরাদ্দের অংক যেমন দৃশ্যত বড়, তেমনি মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার আইনি সংস্কার আনা হয়েছে।
এই মানবিক বাজেটে দেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে মাসিক ভাতার অংক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ঝরে পড়ার হার রোধে তাদের মাসিক শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী পলিসিগত সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখ লাখ দরিদ্র পরিবার তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষার নিয়মিত খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে সরাসরি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা লাভ করবে।
গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ার মতো ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন অর্থ বিলের তথ্য অনুযায়ী, এই সব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের সরকারি এককালীন চিকিৎসা সহায়তার অংক ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বর্ধিত নগদ অর্থ সরাসরি রোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করবে।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদ ও আহত বীর যোদ্ধাদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বাজেটে সম্পূর্ণ নতুন ক্যাটাগরির বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মানুযায়ী, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতার আইনি বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে, আন্দোলনে গুরুতর আহতদের চিকিৎসার ক্ষয়ক্ষতি ও পঙ্গুত্বের গভীরতা বিবেচনা করে তিন স্তর বা ক্যাটাগরিভেদে যথাক্রমে মাসিক ২০ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তীব্র বাজারমূল্যের এই সংকটের সময়ে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও টিসিবির ওয়ান-কার্ড সেবা সচল রাখতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য সরাসরি ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অবশ্য চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের চরম স্থবিরতা এবং ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায়, মাঠপর্যায়ে এই বিপুল পরিমাণ সামাজিক ভাতা ও সহায়তার নগদ টাকা সময়মতো ছাড় করাই হবে নতুন এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।













