বিগত দেড় দশকের লাগামহীন কারসাজি ও প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাটে ধ্বংস হওয়া পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফেরাতে বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী বা পলিসি প্রণোদনা দিয়েছে নতুন সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃত্রিম নগদ সুবিধার পরিবর্তে বাজারের গভীরতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক আইনি ও কারিগরি সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে বাজেটে বোনাস শেয়ারের ওপর সরাসরি ১০ শতাংশ হারে কড়া শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য যেকোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট আয়ের ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দিলে বা নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বোনাস শেয়ার বেশি দিলে এই অতিরিক্ত কর দিতে হবে, যা কাগুজে লভ্যাংশ বন্ধে সাহায্য করবে।
পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট কাটাতে শেয়ার নিষ্পত্তির সময় বর্তমানের ‘টি+২’ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে সরাসরি রিয়েল-টাইম বা ‘টি+০’ করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শেয়ার বিক্রির সাথে সাথেই বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলতে পারবেন এবং একই দিনে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির নতুন শেয়ারে আইপিও (প্রাথমিক গনপ্রস্তাব) ও অনলাইন প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিনিয়োগ করতে পারবেন।
বৈদেশিক পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট আকর্ষণ করতে বিদেশি ও অনাবাসিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজেটে নজিরবিহীন বড় ছাড়ের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত লভ্যাংশ এবং শেয়ার বিক্রির লব্ধ অর্থ নিজ দেশে ফেরত নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক তহবিল টানবে।
ব্যাংক খাতের ওপর থেকে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ঋণের ক্ষতিকর চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিশেষায়িত ‘পৌর বন্ড’ ও সুকুক (ইসলামী বন্ড) চালু করা হচ্ছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও নির্দিষ্ট আয়ের নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি করবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও অর্থ বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহারে কোনো সরাসরি পরিবর্তন আনা হয়নি, অর্থাৎ আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে মূলধনী মুনাফায় পূর্বের যে কর হার রয়েছে, তাতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।













