বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও টেকসই সংস্কারে এই সুনির্দিষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়। ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গভর্নরের সাথে বৈঠক করে এই সংক্রান্ত আট দফার একটি নীতিগত প্রস্তাবনা দাখিল করেন।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডিবিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, করদাতার অর্থ ব্যবহার করে বারবার সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধনীকরণ করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, একীভূতকরণ এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যাংক পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সাথে বাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
আর্থিক খাতের বড় অসঙ্গতি দূর করতে রিটেইনড আর্নিংস এবং স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে জরুরি সমন্বয়ের দাবি তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি সংস্কৃতি বন্ধ এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে বন্ড খেলাপিদের তথ্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ। দেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে লেনদেনের ঝুঁকি কমিয়ে দ্রুত পুনঃবিনিয়োগের সুবিধার্থে ‘টি+১’ সেটেলমেন্ট চালু করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লেনদেন ব্যয় কমাতে একটি নিজস্ব সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম (BUPI) চালুর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও তারল্য প্রবাহ বাড়াতে ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের বিদ্যমান সীমা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। গভর্নর ডিবিএ’র এই ৮ দফা প্রস্তাবনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং আর্থিক খাতের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ দেন।













