দেশের চলমান তীব্র গ্যাস সংকট ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার। একই সাথে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, বন্যাপ্রবণ নীলফামারী ও হবিগঞ্জে বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য ১ কোটি পিস বস্তা কেনার পৃথক চারটি মেগা প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা।
বৈঠক শেষে জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইজারল্যান্ড থেকে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে ১ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ কার্গো এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)। এই গ্যাস আগামী ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা (জেকেএম+ ০.১২৫ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ) অনুযায়ী আরও ২ কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার চূড়ান্ত ব্যয় পরে নির্ধারিত হবে। প্রতি কার্গোতে গ্যাসের পরিমাণ থাকবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।
এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের খালের উন্নয়ন ও দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের একটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বেজা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় খালের ৪ দশমিক ৯০ কিলোমিটারের উভয় পাশে মোট ৯ দশমিক ৮০ কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশনসহ চলাচলের রাস্তা এবং দুটি ঘাট নির্মাণ করা হবে। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঢাকার আদাবরের মনিকো লিমিটেডকে ১০৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বন্যাপ্রবণ এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও দুর্যোগকালীন সময়ে স্থানীয় মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ৪২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে নীলফামারী জেলায় ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১৮৬ কোটি টাকা এবং হবিগঞ্জ জেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ২৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। যৌথভাবে বিডিই লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেসার্স মমিনুল হক এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়া গুণগত মান ঠিক রেখে সরকারি খাদ্যশস্য খামালজাত করার লক্ষ্যে ১২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ কেজি ধারণক্ষমতার এক কোটি পিস নতুন কাট সাইজ বি-টুইল চটের বস্তা কেনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। ১৬টি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি পিস গড়ে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সা মূল্যে এই বস্তাগুলো সংগ্রহ করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।













