এডিপি বাস্তবায়নে সুশাসনের বড় ঘাটতি দেখছে এডিবি

DSJ Web Photo May 23 2026 ADB
ডিএসজে

বাংলাদেশে প্রকল্প পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের মধ্যে নীতিগত বড় ধরনের সংযোগহীনতা ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। যথাযথ অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়া নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি, ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অর্থবছর শেষে তাড়াহুড়ো করে এডিপির বরাদ্দ খরচের সেকেলে প্রবণতা দেশের সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই শাসনতান্ত্রিক অদক্ষতার কারণে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারের হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে, যা দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ অ্যাট আ ক্রসরোডস অব রিফর্মস’ শীর্ষক সুশাসন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন (জিএমএপি) প্রতিবেদনে দেশের এডিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার এই নাজুক চিত্র ও তীব্র সুশাসন ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা যাচাই করে এই বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করল বৈশ্বিক এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের বহিঃপ্রকাশ। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দের বড় অংশই অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে খরচ না করে অলস বসিয়ে রাখা হয়। এরপর মে ও জুন—এই শেষ দুই মাসে এসে তড়িঘড়ি করে বিল পাস ও কেনাকাটার মহোৎসব শুরু হয়, যা সুশাসনের চরম পরিপন্থী। এই ধরনের অপব্যয়ের কারণে প্রকল্পের কাজের মান যেমন বজায় থাকে না, তেমনি জনগণের ট্যাক্সের পয়সার সঠিক ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি) নিশ্চিত করাও সম্ভব হয় না।

অনেক সরকারি প্রকল্প পুঙ্খানুপুঙ্খ অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ এবং সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাবে এডিপিতে অনুমোদন পেয়ে যায়। এর পরবর্তীতে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় দীর্ঘমেয়াদি সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির এক ঐতিহাসিক পুনরাবৃত্তি। বারবার সময় ও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর এই সংস্কৃতির কারণে বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি সময়মতো অর্জন করা যাচ্ছে না। একই সাথে, সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব রক্ষণ ব্যবস্থা বা ‘আইবাস++’ সব ধরনের উন্নয়ন লেনদেন এবং বকেয়া ব্যয় বা দেনা মনিটর করতে পারে না, যা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই সমস্ত শাসনতান্ত্রিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এডিবি একটি সমন্বিত জরুরি সংস্কারের রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন ও এনবিআরকে পুনর্গঠন করা, আইবাস++ এর পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন এবং রাজনৈতিক বিবেচনা ও আমলাতান্ত্রিক তদ্বিরে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো এডিপি থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া অন্যতম। এডিবি মনে করে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ও সহজ শর্তের ঋণ কমে যাবে; তাই অভ্যন্তরীণ এডিপি বাস্তবায়নে সুশাসন ও স্বচ্ছতা আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top