সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাত ইজারা দেওয়া হবে না: তিতুমীর

Web Photo Card May 15 2026 DebateForDemocracy
ছবি: ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ঋণের বোঝা চাপিয়ে পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে এবং তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে কৃত্রিম উন্নয়ন দেখিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে বাজারে যে প্রচার চলছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘গালগল্প’ ও বাস্তবতাহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে সাধারণ মানুষের ঘরে, ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং সরকারের আয়ে বড় ধরনের টান পড়েছিল। এই অর্থনৈতিক টান এতটাই ব্যাপক ও ভয়াবহ ছিল যে, দেশের বিপুলসংখ্যক নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ রাতারাতি দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর ফলে আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সমাজকাঠামোতে বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে। সে সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সচল রাখতে গিয়ে কোনো পুঁজি বা ব্যাংক ঋণ পাননি।

অর্থনীতির খাতগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী সরকার দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার এই ধরনের কোনো সিন্ডিকেটের কাছে দেশের কোনো খাতকেই ইজারা দিতে চায় না। বরং সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে বদ্ধপরিকর। অতীতে ধমকাধমকি ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে তথ্য জালিয়াতি করা হলেও বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

বাজেটের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোট ও আকাঙ্ক্ষা থেকে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারগুলোই এখন সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক এজেন্ডা। এর মাধ্যমে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অর্জিত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এবার বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ সামলাতে হবে। তবে বাজেট যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ায় এবং ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)-এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top