এপ্রিলে আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ১৮ শতাংশ

ডিএসজে

দেশের পণ্য আমদানিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট ৬৭৯ কোটি ডলার বা ৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। যেখানে ঠিক আগের মাস অর্থাৎ মার্চে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আমদানির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস ফেরার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্ট ও ব্যাংকাররা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটতে শুরু করায় এবং নতুন সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগে আমদানিকারকরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানিতে এলসি খোলার হার বেড়েছে। শিল্পের কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া সামগ্রিকভাবে এলসি খোলার এই উল্লম্ফনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এলসি খোলার পাশাপাশি আমদানির দায় বা এলসি নিষ্পত্তির হারেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত এপ্রিলে আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৫১ কোটি ডলার বা ৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। মার্চ মাসে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যাংকগুলোতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে, যার ফলে আমদানিকারকরা সময়মতো তাদের দায় মেটাতে পারছেন।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এপ্রিলে একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি এলসি খুলেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি এ সময় ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এলসি খোলার পাশাপাশি ৪৯ কোটি ডলারের এলসি নিষ্পত্তি করেছে। আমদানিতে সক্রিয় অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে সিটি ব্যাংক ৪১ কোটি ডলার, পূবালী ব্যাংক ৩৫ কোটি ডলার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ৩৪ কোটি ডলার এবং ইসলামী ব্যাংক ৩১ কোটি ডলারের এলসি খুলেছে। শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর এই সক্রিয়তা সামগ্রিক আমদানি বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

উল্লেখ্য যে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তীব্র ডলার সংকটের কারণে আমদানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিলাসদ্রব্য ও কম প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির ওপর থেকে অনেক কড়াকড়ি তুলে নিয়েছে। আমদানিতে এই শিথিলতা আসার পর থেকেই উদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে এপ্রিলের এই পরিসংখ্যানে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top