বিমানের আকাশে বোয়িংয়ের রাজত্ব: এয়ারবাসের হার

DSJ Web Photo April 30 2026 Biman

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নিজেদের একক আধিপত্য বজায় রাখল মার্কিন উড়োজাহাজ জায়ান্ট বোয়িং। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা বলরুমে বোয়িং-এর সঙ্গে ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বহরে ১০টি ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ (২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার) এবং ৪টি ন্যারো বডি বোয়িং ৭৩৭-৮ (এমএএক্স) মডেলের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। তালিকা মূল্য অনুযায়ী এই প্রস্তাবিত অর্ডারের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিমানের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের অক্টোবরে প্রথম উড়োজাহাজটি বহরে যুক্ত হবে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিমানের নিজস্ব বহরকে ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এই নতুন চুক্তিটি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। তিনি বলেন, “জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর”। তিনি বিমানকে একটি অত্যাধুনিক ও যাত্রীবান্ধব এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। মন্ত্রী আরও জানান, বহরে আধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ সংযোজন করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত জরুরি লক্ষ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের মাধ্যমে দেশের বিমান খাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হলো। প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো না আসা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘ড্রাই লিজিং’ পদ্ধতিতে উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আক্তার এনডিসি এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টিই বোয়িং-এর তৈরি। আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা ও ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে বিমানের বর্তমানে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন।

বিমানের বোর্ড গত ৩০ ডিসেম্বর বোয়িংয়ের দেওয়া সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত এই নীতিগত অনুমোদন দেয়। এই নতুন সংযোজন বিমানের আঞ্চলিক ও দীর্ঘপাল্লার রুটগুলোতে আধিপত্য বাড়াতে এবং বিমানকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top