দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী পরিবহনের খরচ কমাতে ও যানজট নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইলেক্ট্রিক বাস’ আমদানিতে কোনো প্রকার শুল্ক-কর দিতে হবে না। গত ২৭ এপ্রিল এক বিশেষ এসআরও জারির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
এনবিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী পরিবহনের উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত ইলেক্ট্রিক বাসের ওপর বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়করসহ সমূদয় শুল্ক-করাদি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজে অথবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো আমদানিকারক শিক্ষার্থী পরিবহনের উদ্দেশ্যে গাড়ি আমদানি করলে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে এই সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত বাসের রঙ অবশ্যই হলুদ হতে হবে এবং বাসের গায়ে ‘স্কুল/কলেজ/স্টুডেন্ট বাস/ট্রান্সপোর্ট’ শব্দগুলো বড় ও সুস্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হবে। কোনোপ্রকার শুল্ক-কর পরিশোধ ব্যতিরেকে এই বাস আমদানির জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পরিবেশবান্ধব ইলেক্ট্রিক বাস চালুর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন খরচ যেমন কমবে, তেমনি আধুনিক ও আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এর ফলে উন্নত পরিবহনে একসাথে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করতে পারবে বিধায় দেশের তীব্র যানজট নিরসন হবে এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত বাবদ অভিভাবকদের মাসিক খরচও বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে যে, সাধারণ যাত্রীদের পরিবহনের জন্যও ইলেক্ট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-করাদি হ্রাসের বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য আধুনিক ইলেক্ট্রিক বাস সহজলভ্য হলে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত হবে, যা দেশের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করবে এবং সাধারণের যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।













