শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা সহজীকরণ করেছে সরকার। এখন থেকে কারখানার মালিকরা কম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গ্যাস লোড স্থানান্তর এবং সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস করতে পারবেন। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী নেতারা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো শিল্প ইউনিট তাদের অনুমোদিত প্রতি ঘণ্টার গ্যাস লোড অপরিবর্তিত রেখে কারখানার অভ্যন্তরে সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস বা প্রতিস্থাপন করতে পারবে। এজন্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। তবে কাজ শেষে তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে তা পরীক্ষা করে নিতে হবে।
সবচেয়ে বড় সংস্কার এসেছে গ্যাস লোড স্থানান্তরের ক্ষেত্রে। এখন থেকে একই মালিকানাধীন এবং একই চত্বরে অবস্থিত একাধিক শিল্প ইউনিটের মধ্যে অব্যবহৃত গ্যাস লোড স্থানান্তর করা যাবে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য বিতরণ কোম্পানির বোর্ড সভার অনুমোদনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ব্যয় হতো। এখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা আঞ্চলিক প্রধানের অনুমতি নিয়েই এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। এ ছাড়াও ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার’ ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ করা গ্যাস এখন থেকে প্রয়োজনে একই চত্বরে অবস্থিত শিল্প ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
গ্যাস সংযোগ ও মিটার স্থাপনের বিষয়েও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। মিটার স্থাপনের পর সাত দিনের মধ্যে বিতরণকারী কোম্পানিকে তার গুণগত মান যাচাই করতে হবে। তবে শিল্প ক্যাটাগরির লোড ক্যাপটিভ পাওয়ারে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
জ্বালানি-নির্ভর টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা এই সিদ্ধান্তকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সংস্কারের ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের পরিচালন ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন হওয়ায় এখন কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখা সহজ হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।













