ঋণখেলাপি এস আলম গ্রুপের অংশীদারত্ব থাকা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এস এস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আমদানি কার্যক্রমে এলসি খোলার অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। তবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের কঠোর শর্তে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আমদানির এলসি খোলার আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা নগদ হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এস এস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি এলসি খোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় থাকবে না বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ এলসি খোলার পর এ-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হলে তার দায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বর্তাবে না। ভবিষ্যতে এ সুবিধার জন্য রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।
১০০ শতাংশ ক্যাশ মার্জিনের অর্থ হলো, আমদানির জন্য যে পরিমাণ অর্থের এলসি খোলা হবে, তার সমপরিমাণ অর্থ আগেই আমদানিকারককে ব্যাংকে নগদ জমা দিতে হবে। ফলে এলসির বিপরীতে ব্যাংকের ঋণ বা নিজস্ব তহবিল ব্যবহারের প্রয়োজন থাকে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭(কক)(৩) ধারার বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর হবে না। তবে এস এস পাওয়ার-১-এর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ সুবিধার সঙ্গে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের শর্ত যুক্ত রয়েছে।
এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় অবস্থিত। বেসরকারি খাতে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রটির মালিকানায় রয়েছে এস আলম গ্রুপ ও চীনা অংশীদাররা। এতে এস আলম গ্রুপের অংশীদারত্ব ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ অব্যাহত রাখা এর পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে ব্যাংকটির সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি সীমিত রাখার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায় না নেওয়ার শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে এই সুবিধার আওতায় রূপালী ব্যাংকের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হলে তা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে এলসি খোলার আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও ব্যাংকটির ওপরই থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এস এস পাওয়ার-১-এর আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে বিশেষ নিয়ন্ত্রক ছাড়ের সঙ্গে কঠোর আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। একদিকে এলসি খোলার পথ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়মুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সম্ভাব্য ঝুঁকিও সীমিত করা হয়েছে।













