ব্যবসা সহজ করতে কেন জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করল সরকার?

DSJ Web Photo Bangladesh
ডিএসজে

ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক ও বিভিন্ন সরকারি সেবার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমাতে সংস্কারের রূপরেখা তৈরি এবং তার বাস্তবায়ন তদারক করবে ২১ সদস্যের এই টাস্কফোর্স। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এ টাস্কফোর্সকে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও ব্যবসার ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ রয়েছে, কোন বিধান সংস্কার প্রয়োজন এবং কোন সরকারি সেবা দ্রুত করা সম্ভব—এসব বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাস্কফোর্সের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বিভিন্ন খাতের জন্য বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণের রূপরেখা অনুমোদন এবং তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। লাইসেন্স, পারমিট ও ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে সেগুলো বাদ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ করতে জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নেও নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে টাস্কফোর্স। অনলাইন আবেদন, অনুমোদন ও আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের ব্যবস্থা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেটিও এর আলোচ্য হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তৈরি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রয়োজন অনুযায়ী আইন, বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের বিষয় চিহ্নিত করাও টাস্কফোর্সের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, অনিয়ম ও সেবা পেতে বিলম্বের বিষয়গুলোও নজরদারির আওতায় আসবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অভিযোগ টাস্কফোর্সের কাছে উপস্থাপনের ব্যবস্থা থাকবে। সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত, বিশেষ করে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।

টাস্কফোর্সে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ব্যবসায়ী খাত থেকেও এফবিসিসিআই, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ টাস্কফোর্সের সাচিবিক সহায়তা দেবে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নতুন কোনো কমিটি গঠন নয়; বরং ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে থাকা প্রশাসনিক বাধাগুলোকে এক জায়গায় এনে দ্রুত সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশেষ করে অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করা, সরকারি সেবার সময় কমানো এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করা গেলে ব্যবসার খরচ কমার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top