ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলে মন্ত্রিসভার সায়

DSJ Web Photo FinancialStability
ডিএসজে

সংকটে পড়া ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন ও মূলধন-তারল্য সংকট কাটানোর বিকল্প পথ তৈরি করতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে যুক্ত করা হয়েছিল বিশেষ একটি ধারা। কিন্তু সেই ১৮(ক) ধারাটিই এখন বাতিল হতে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই ধারার অধীনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন না করায় এটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়েছে।

এর ফলে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশোধনী আইন কার্যকর হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এ থাকা ১৮(ক) ধারা আর বহাল থাকবে না।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল সংকটে পড়া ব্যাংকের জন্য প্রচলিত রেজল্যুশন ব্যবস্থার বাইরে বাজারভিত্তিক একটি বিকল্প পথ তৈরি করা। কোনো তফসিলি ব্যাংক মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকিতে পড়লে সেটিকে সচল রেখেই পুনর্গঠন ও আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরির কথা ছিল এ ধারায়।

সরকারের আর্থিক দায় কমানোর পাশাপাশি আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধারাটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিশেষ করে সংকটাপন্ন ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সমস্যা সমাধানে বাজারভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রাখাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।

তবে বাস্তবে এ ধারার অধীনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। ফলে কার্যকর ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় সরকার এখন ধারাটি আইনের বাইরে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে। তফসিলি কোনো ব্যাংক গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যেই ওই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।

পরে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ দিতে তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য বিলটি সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হলে কমিটি কিছু সংশোধনের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়।

সংশোধনী আইনের খসড়ায় ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সরকার এখন আইনটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর খসড়াটি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। সংসদীয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সংশোধনী আইন কার্যকর হলে ধারাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হবে।

এখন মূল প্রশ্ন, ১৮(ক) ধারা বাতিলের পর সংকটে পড়া ব্যাংকের পুনর্গঠন বা আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেজল্যুশন কাঠামোই কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে। কারণ ব্যাংক রেজল্যুশন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো—সংকটে পড়া ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে সরকারি আর্থিক দায় সীমিত রাখা।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top