বাজেটে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: ৫৫ লাখ পরিবারে স্বস্তি

Web Photo Card June 11 2026 M
প্রতীকী ছবি (AI দ্বারা তৈরি)

তীব্র বাজারমূল্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের এই কঠিন সময়ে দেশের ৫৫ লাখ অতিদরিদ্র পরিবারের নিত্যদিনের অন্নসংস্থান নিশ্চিত করতে সামাজিক খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বড় ধরনের সুরক্ষাকবচ ঘোষণা করেছে সরকার। আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় সাধারণ মানুষের খাদ্য কষ্ট লাঘবে ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিধি একযোগে বাড়ানোর এই নীতিগত রূপরেখা উন্মোচন করেন। নতুন অর্থবছরে দেশের সাধারণ ও অতিদরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে চালের দাম ধরে রাখতে রেকর্ড রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির মাধ্যমে এই কল্যাণমুখী কার্যক্রম সরাসরি মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নতুন বাজেটের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, দেশব্যাপী খোলা বাজারে বিক্রয় বা ওএমএস কার্যক্রমের আওতাধীন ৪১৯টি উপজেলায় অতিরিক্ত ট্রাক সেল এবং নতুন বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি অব্যাহত রাখা হবে। একই সাথে, গ্রামীণ ও শহরের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র পরিধি নজিরবিহীনভাবে সম্প্রসারণ করে বছরের কর্মাভাবকালীন বা সংকটের সুনির্দিষ্ট ৬ মাসে মোট ৫৫ লাখ উপকারভোগী পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে মানসম্মত চাল সরাসরি সরকারি গুদাম থেকে ক্রয়ের আইনি অধিকার লাভ করবে।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের দরিদ্র মানুষেরা যাতে কোনো ধরনের পুষ্টি ও খাদ্য সংকটে না পড়েন, সেজন্যই ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এই মানবিক পরিকল্পনার সফল ও নিরবচ্ছিন্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যাপ্ত চালের জরুরি বাফার স্টক বা রাষ্ট্রীয় মজুত গড়ে তোলা সম্পন্ন হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় মজুত ব্যবস্থার ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আপৎকালীন ঘাটতি মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে অত্যন্ত সহজ হবে।

বাজার বিশ্লেষকেরা সরকারের এই জনবান্ধব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, ওএমএস-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল বিক্রি সচল রাখলে তা খোলা বাজারে চালের দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাড়াতে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করবে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এবার সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাজেটের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এই বিশাল নগদ তহবিলের জোগান সময়মতো সচল রাখাই হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top