ছয় মাসে লাফার্জহোলসিমের মুনাফা ৭০৪ কোটি টাকা

DSJ Web Photo Infrastructure
ডিএসজে

মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং নির্মাণ খাতের ধীরগতির মতো বৈশ্বিক ও স্থানীয় চাপের মধ্যেও ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রি ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি। কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ, বিশেষায়িত পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে কোম্পানিটির নিট বিক্রি ১৪ শতাংশ বেড়ে ৭৪০ কোটি টাকায় এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৭৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা ১৮ শতাংশ বেড়ে ১৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৯০ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৮৩ টাকা।

তবে পুরো বছরের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) চিত্র তুলনামূলকভাবে কিছুটা দুর্বল। ছয় মাসে নিট বিক্রি ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকায় পৌঁছালেও পরিচালন মুনাফা ১১ শতাংশ কমে ২৬৪ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৮ শতাংশ কমে ২১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় ২.০৩ টাকা থেকে কমে ১.৮৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ, উদ্ভাবনী পণ্য, ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা এবং কার্যকর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ দ্বিতীয় প্রান্তিকের ভালো ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের বাড়তি ট্যারিফ ও বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও মুনাফার হার ধরে রাখতে কোম্পানি বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের বিক্রি বাড়ানোয় ব্যবসার গুণগত প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তাদের ‘জিওসাইকেল’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার টন পুনর্ব্যবহার অযোগ্য বর্জ্যকে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তর করে উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং বৃত্তাকার অর্থনীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আরও জোরদার হয়েছে।

একই সঙ্গে হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট, সুপারক্রিট প্লাস, হোলসিম কোস্টাল গার্ড এবং পাওয়ারক্রিট-এর মতো বিশেষায়িত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ কোম্পানির বিক্রি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। পাশাপাশি অ্যাগ্রিগেটস (পাথর ও নির্মাণসামগ্রী) ব্যবসায়ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

তবে কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, বছরের বাকি সময়েও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নির্মাণ খাতের চ্যালেঞ্জ ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তা সত্ত্বেও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০২৬ সালের পুরো বছরেই টেকসই আর্থিক ফলাফল ধরে রাখার বিষয়ে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top