জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়ে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন—সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় উপস্থাপিত এই তথ্য সঠিক নয়। তথ্যটির মূল উৎস যাচাই না করার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
তবে নির্দিষ্ট তথ্যটি ভুল হলেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে সামগ্রিক উদ্বেগ অমূলক নয় বলে জানিয়েছে সিপিডি।
গত ২৪ আগস্ট ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক গণমাধ্যম সংলাপে সিপিডির উপস্থাপিত প্রতিবেদনের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ১১ নম্বর স্লাইডে ওই তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন।
পরে তথ্যটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সিপিডি জানায়, ২২ আগস্ট ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে তথ্যটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদন তৈরির সময় তারা তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করেনি।
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট উল্লেখ করা হয়েছিল। এর ফলে ভুল তথ্য সিপিডির প্রতিবেদনে চলে আসে।
ঢাকা ট্রিবিউন ২৫ আগস্ট বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সংশোধন করে। এরপর বিষয়টি সিপিডির নজরে আসে। এক ব্যাখ্যায় সংস্থাটি বলেছে, অনবধানতাবশত সৃষ্ট এই বিভ্রান্তির জন্য তারা দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত ভুল এড়াতে আরও সতর্ক থাকবে।
সিপিডি জানিয়েছে, অর্থনৈতিক পর্যালোচনা তৈরিতে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্য, জাতীয় বাজেট, সংবাদ প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎস ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কারখানা বন্ধের তথ্যের ক্ষেত্রে মূল উৎস যাচাই না করাটিই ভুলের প্রধান কারণ।
সিপিডির বক্তব্য, ৯৫টি কারখানা ও ৬১ হাজার ৮৮১ কর্মহীন হওয়ার হিসাবটি ভুল হলেও শিল্প খাতে চাপ নিয়ে তাদের উদ্বেগের ভিত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই শিল্প খাতের পরিস্থিতি আলোচনায় আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যবহারের আগে মূল উৎস যাচাই করা কতটা জরুরি, এই ঘটনাটি তা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভুল সময়কালসহ কোনো তথ্য নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
সিপিডি সরকারের প্রতি শিল্পকারখানা বন্ধের বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত চিত্র জানতে কারখানা বন্ধের সংখ্যা, বন্ধের কারণ এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব যাচাই করে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্যটির অসঙ্গতি নজরে আনার জন্য দ্য ডিসেন্টকে পেশাদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে সিপিডি।











