এসআইবিএলেও প্রশাসক প্রত্যাহার, মুক্ত হবে আরও তিন ব্যাংক

DSJ Web Photo BankMerger
ডিএসজে

এক্সিম ব্যাংকের পর এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র অধীনে পরিচালন কাঠামো হস্তান্তরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও তিনটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাকি তিনটি ব্যাংক থেকেও খুব শিগগির একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হয়। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এখন দুটি ব্যাংকে নতুন পরিচালন কাঠামো কার্যকর হলো।

গত ২০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিচালন দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগের দিন তিনি পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারও উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। এসব বৈঠকে প্রতিটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, পরিচালন সক্ষমতা, আইটি প্রস্তুতি এবং পুনর্গঠনের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই কোন ব্যাংক থেকে কখন প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে, তার সুপারিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাঁচটি ব্যাংক থেকে একযোগে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। যে ব্যাংকের পরিচালন দায়িত্ব নতুন পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত হবে, কেবল সেই ব্যাংক থেকেই প্রশাসক সরানো হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে।

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ইতোমধ্যে সরকার নতুন ব্যাংকটিকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আট সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, প্রশাসক প্রত্যাহার মানেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়; বরং এটি নতুন পরিচালন কাঠামোর অধীনে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরবর্তী ধাপ। ধাপে ধাপে পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় নিয়ে এসে পুরো একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top