বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার নির্দেশ

Bangladesh Bank
ডিএসজে

বাংলাদেশে কাজ করতে এসে নগদে বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বেতন নেওয়ার সুযোগ কমছে বিদেশি কর্মীদের। এখন থেকে বৈধ ও হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্থানীয় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন তারা। আর সেই হিসাবেই দিতে হবে বেতন ও অন্যান্য ভাতা।

বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা স্থানীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ নিশ্চিত করতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে এ৩ ভিসাধারী বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। তবে বাংলাদেশে কর্মরত অন্য শ্রেণির কর্মসংস্থান ভিসাধারী বিদেশিদেরও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পাওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বৈধ ও হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট থাকা বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার আবেদন যথাযথভাবে প্রক্রিয়া করতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিটই এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শর্ত। ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত গ্রাহক পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হিসাব খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ বিদেশি কর্মীর পরিচয়, কর্মসংস্থান এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করেই ব্যাংকিং সুবিধা দিতে হবে।

এ৩ ভিসা মূলত দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক ও কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের বেতন ও ভাতা স্থানীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

তবে নির্দেশনাটি শুধু এ৩ ভিসাধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশে অন্য ধরনের কর্মসংস্থান ভিসায় কাজ করা বিদেশি নাগরিকদেরও বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।

বাংলাদেশে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ও তাদের কর্মসংস্থানের পরিধি বিবেচনায় এ নির্দেশনার গুরুত্ব রয়েছে। বিডার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি ৫ হাজার ৪৯১টি নতুন ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৪০৭টি ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে নতুন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬১টি। আর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল ৯ হাজার ৯৪৭টির। অর্থাৎ এক বছরে নতুন ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা কমলেও মেয়াদ বাড়ানোর সংখ্যা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে বিদেশি কর্মীদের বেতন পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের আয়, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ওপর ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি ও নথিভুক্তি আরও সহজ হবে।

বিদেশি কর্মীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বিদেশি কর্মীদের আয় ও বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিটের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সার্বিকভাবে নতুন নির্দেশনায় বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, ব্যাংক হিসাব ও বেতন পরিশোধকে একই আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ স্পষ্ট হয়েছে। এতে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশিদের ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার পথ সহজ হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদেরও বেতন পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের বিষয়টি আরও বাধ্যতামূলক হলো।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top