ব্যবসা সহজে উদ্যোগ ইতিবাচক, তবে জ্বালানি সংকটই বড় চ্যালেঞ্জ: বিকেএমইএ

DSJ Web Photo BKMЕA
ডিএসজে কোলাজ

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসকে মূল্যায়নের জন্য সময়টা যথেষ্ট নয়—তবু ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, বেসরকারি খাতকে সহায়তা এবং অর্থনীতির গতি ফেরাতে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সংগঠনটির মতে, শিল্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোরও এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ব্যবসার পরিবেশে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। তারপরও ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, বেসরকারি খাতকে সহায়তা এবং অর্থনীতির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও রয়েছে।

বিকেএমইএর মতে, রুগ্ণ, আংশিক বন্ধ বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার উদ্যোগ বেসরকারি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কিছু নীতিগত বাধা সহজ করার উদ্যোগও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

রপ্তানিকারকদের জন্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির ভাষ্য, আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে রপ্তানিকারকদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কর নীতিতেও ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করে বিকেএমইএ। এসব পদক্ষেপ বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।

তবে ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্প খাতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। বিকেএমইএ বলছে, এই সংকটের তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান সহজ নয়। কারণ, নতুন সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে এসব সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।

তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্পমেয়াদে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে তাদের পরামর্শ চেয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

বিকেএমইএর মতে, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীও এসব বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কিছু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এলএনজি সংকট সমাধানের কোনো ‘শর্টকাট’ নেই। নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে।

বিকেএমইএ বলছে, শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও সংগঠনটি সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্বীকার করলেও বিকেএমইএর মতে, ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর এখনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি। ফলে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে এ সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে বিকেএমইএ। ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ বিষয়েও সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ছয় মাসকে মিশ্র অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, ব্যবসা সহজ করা, বেসরকারি খাতকে সহায়তা এবং অর্থনীতির গতি ফেরাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো বড় হয়ে আছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদে সরকার এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top