গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মধ্যে পোশাকশিল্পের ওপর নতুন আর্থিক চাপ ঠেকাতে জুলাই-আগস্ট ২০২৬ মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে লিখিত আবেদন করেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের মারাত্মক সংকটের কারণে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে অনেক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
চিঠিতে বিকেএমইএ বলেছে, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধের চাপও বহন করতে হচ্ছে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিকেএমইএর আবেদনে আরও বলা হয়েছে, রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা জরুরি। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাৎক্ষণিক বিল পরিশোধের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কিস্তি সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিকেএমইএ একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে বলেছে, দেশের রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সংগঠনটির চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম ও কেজডা?—গ্যাস বিতরণকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-সহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংস্থার ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও পাঠানো হয়েছে।
বিকেএমইএর এই আবেদন এমন সময়ে এসেছে, যখন উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানি বাজারের চাপ—সব মিলিয়ে দেশের নিটওয়্যার শিল্পকে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিততা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিলে একই সঙ্গে স্থায়ী খরচের বোঝাও বাড়ে। ফলে বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর সুবিধা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
তবে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। বিকেএমইএর আবেদনটি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংস্থাগুলো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
দেশের নিটওয়্যার শিল্প রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে হঠাৎ বড় অঙ্কের ইউটিলিটি বিল পরিশোধের চাপ কমানো—দুই দিক থেকেই সরকারের নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বিকেএমইএ।













