বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্টে আসছে বাংলালিংকের ‘মুক্ত পে’

DSJ Web Photo BL
ডিএসজে

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে প্রবেশ করছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্ত পে’ নামে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মে টাকা স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স পেমেন্ট, ইউটিলিটি ও সরকারি বিল পরিশোধ এবং বেতনসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ বিতরণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনইও পিএসপি লিমিটেডকে পিএসপি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪-এর ৫(৪) ধারার অধীনে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

বাংলালিংকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ‘মুক্ত পে’ তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সেবা। এর মাধ্যমে অনুমোদিত বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা বা পর্যাপ্ত আর্থিক সেবা না পাওয়া ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাইক্রো-মার্চেন্টদের ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

সেবাটিতে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে অর্থ স্থানান্তর, মার্চেন্ট পেমেন্ট, অনলাইন কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং সরকারি বিল পরিশোধের সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য অর্থ বিতরণের সুবিধাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব সেবা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও অনুমোদিত কার্যপরিধির মধ্যে পরিচালিত হবে।

বাংলালিংক বলছে, দেশজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক, গ্রাহকভিত্তি এবং বিদ্যমান ডিজিটাল অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে ‘মুক্ত পে’ আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষ ও ছোট ব্যবসাগুলোকে ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করার মাধ্যমে সেবাটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান বুস বলেন, নগদবিহীন সমাজ ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে আরও বেশি মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। বাংলালিংকের দেশব্যাপী উপস্থিতি এবং স্থানীয় গ্রাহকদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতার সঙ্গে মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের বৈশ্বিক ডিজিটাল দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দৈনন্দিন ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজ ও সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

‘মুক্ত পে’ চালুর মধ্য দিয়ে টেলিযোগাযোগের মূল ব্যবসার বাইরে বাংলালিংকের ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা বিস্তারের পরিকল্পনাও আরও স্পষ্ট হলো। প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি ভিওন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সুযোগ নিয়েও কাজ করছে এবং একটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে বলে বাংলালিংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন লাইসেন্স পাওয়ার ফলে বাংলাদেশে পিএসপি বা ই-ওয়ালেট হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এনইও পিএসপি লিমিটেডের আগে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আইপে সিস্টেমস, ডি মানি বাংলাদেশ, রিকারশন ফিনটেক, গ্রিন অ্যান্ড রেড টেকনোলজিস, প্রগতি সিস্টেমস, এবিজি টেকনোলজিস, ডিজিটাল পেমেন্টস, শেবা ফিনটেক এবং সমাধান সার্ভিসেস।

ডিজিটাল পেমেন্টের বাজারে নতুন একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য সেবার পরিধি ও বিকল্পও বাড়তে পারে। তবে ‘মুক্ত পে’ কত দ্রুত বাজারে কার্যকরভাবে বিস্তৃত হবে এবং মোবাইল অপারেটরের বিশাল গ্রাহকভিত্তিকে কতটা সক্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারকারীতে রূপান্তর করতে পারবে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top