বিদেশে শিক্ষার খরচে শিক্ষার্থী-অভিভাবকের নামে আন্তর্জাতিক কার্ড

DSJ Web Photo April 21 2026 CreditCard
প্রতীকী ছবি

বিদেশে পড়াশোনার খরচ দিতে এখন থেকে শুধু শিক্ষার্থীর নামেই নয়, তাঁর পড়াশোনার খরচ বহনকারী ব্যক্তির নামেও আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি, এনরোলমেন্ট ফি এবং অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা যাবে। ফলে সন্তানের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বহনকারী অভিভাবক বা অন্য ব্যক্তি নিজ নামের কার্ড ব্যবহার করেই নির্ধারিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

এ জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রিপেইড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু অথবা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এসব কার্ড শুধু শিক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ পেমেন্টের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং এ লেনদেন বিদ্যমান বার্ষিক ভ্রমণ কোটার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না।

১০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। এফইপিডি-১ সার্কুলার নং-২৯-এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন পরিচালনাকারী সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশের স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ভাষা কোর্স, পেশাগত ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেটসহ নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।

বিশেষ করে যেসব বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত পেমেন্ট বা এনরোলমেন্ট প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিউশন ফি পরিশোধের শর্ত রাখে, সেসব ক্ষেত্রে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।

কার্ডটি শিক্ষার্থীর নামে অথবা তাঁর পড়াশোনার ব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যাবে। অর্থাৎ, বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর বাবা-মা বা অন্য কোনো বৈধ খরচ বহনকারী ব্যক্তি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিজের নামে কার্ড নিয়ে সেই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব ঋণনীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সতর্কতামূলক সীমা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার শুধু শিক্ষা-সংক্রান্ত পেমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এ সুবিধার আওতায় হওয়া লেনদেন আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে এবং তা বিদ্যমান ভ্রমণ কোটা বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের আগে ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, খরচ বহনকারী ব্যক্তি এবং পেমেন্টের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সব আনুষ্ঠানিকতা ও যাচাই-বাছাই সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কার্ডে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা জমা বা লোড করা যাবে। তবে কার্ডে লোড করা অর্থের বেশি ব্যয় করা যাবে না।

পেমেন্ট করতে হবে শুধু অনুমোদিত ও সংশ্লিষ্ট প্রাপকের কাছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। একই সঙ্গে কার্ডটি যেন টিউশন ফি বা অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, এ সুবিধার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সব তথ্য ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তা উপস্থাপন করা যায়।

প্রতিটি লেনদেন উপযুক্ত পারপাস কোড ব্যবহার করে টিএম মডিউলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে। ফলে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে শিক্ষা ব্যয়ের নামে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিও থাকবে।

তবে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের বিষয়ে আগে থেকে কার্যকর অন্যান্য নিয়ম ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন ব্যবস্থায় মূলত বিদেশে পড়াশোনার অর্থ পরিশোধের একটি বিকল্প চ্যানেল তৈরি হলো। বিশেষ করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডে টিউশন বা এনরোলমেন্ট ফি গ্রহণ করে, তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কিংবা তাঁর খরচ বহনকারী ব্যক্তির জন্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের আওতায় রাখার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top