ব্যাংকগুলোর জরুরি তারল্য সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নেওয়ার পুরোনো একটি ব্যবস্থা তুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত (তফসিলি) ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কলমানি বাজার, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ একাধিক কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার আর প্রয়োজন নেই।
রবিবার ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টিটি ডিসকাউন্টিং ছিল এমন একটি বিশেষ সুবিধা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যাংক জরুরি তারল্য সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের বিপরীতে লিয়েন সৃষ্টি করে অথবা অতিরিক্ত জামানত ছাড়াই স্বল্পমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করতে পারত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সুবিধার ব্যবহার খুবই সীমিত ছিল। এ কারণে এটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কলমানি বাজার, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণের মতো কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত উৎস রয়েছে। এসব ব্যবস্থার কারণে টিটি ডিসকাউন্টিং কার্যত অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধীরে ধীরে তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাজারভিত্তিক কাঠামোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কলমানি বাজার ও রেপো সুবিধার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতিগত সহায়তা আরও কাঠামোবদ্ধ করেছে। ফলে জরুরি তারল্য সহায়তার পুরোনো ও কম ব্যবহৃত ব্যবস্থাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক তারল্য ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ অধিকাংশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই টিটি ডিসকাউন্টিংয়ের পরিবর্তে রেপো, এসএলএফ এবং আন্তঃব্যাংক বাজারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বল্পমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করছে। তবে যেসব ব্যাংক তারল্য ব্যবস্থাপনায় এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিকল্প সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাজারভিত্তিক উৎস ব্যবহারের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।













