নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখল বাংলাদেশ। জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। যদিও জুনের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা মাসভিত্তিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রবিবার প্রকাশিত এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। আগের মাস জুনে রপ্তানি ছিল ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের ৪৭৭ কোটি ৬ লাখ ডলারের তুলনায় আয় কিছুটা কমেছে।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) থেকেই এসেছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। যদিও জুনের তুলনায় নিটওয়্যার রপ্তানি ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি কিছুটা কমলেও সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ২০২৫ সালের জুলাই ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড। সেই ব্যতিক্রমী উচ্চ ভিত্তির বিপরীতে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রায় ৩৮৯ কোটি ডলারের রপ্তানি নতুন অর্থবছরের জন্য ইতিবাচক সূচনা বলেই মনে করছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, তাদের ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) তথ্যেও প্রায় একই প্রবণতা দেখা গেছে। জুলাইয়ে ইউডি মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় ৩৮৯ কোটি ডলারের রপ্তানি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতারই প্রমাণ।
পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাইয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ৫৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলার হয়েছে। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার।
দেশভিত্তিক রপ্তানিতে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ে দেশটিতে ৯১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এরপর রয়েছে জার্মানি (৪৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার), যুক্তরাজ্য (৪৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার), স্পেন (৪২ কোটি ২৩ লাখ ডলার) এবং নেদারল্যান্ডস (২৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার)।
অপ্রচলিত বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ভারতে রপ্তানি ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে বছরওয়ারি সামান্য ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হলেও মাসভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে গ্যাস সংকট, বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানির গতি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নতুন অর্ডার এবং অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে রপ্তানিতে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যেতে পারে।













