৬ হাজার চালক নেবে দুবাই ট্যাক্সি, কাল থেকে ইন্টারভিউ

Web Photo Card May 16 2026 dubai
ছবি: দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি

চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের বড় ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি’। এই বৃহৎ লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ জন নতুন চালক নিয়োগের জন্য আগামীকাল সোমবার থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) আনুষ্ঠানিক স্ক্রিনিং ও সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

আজ রোববার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ঢাকাস্ত কার্যালয়ে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই নিয়োগ পরিকল্পনার কথা চূড়ান্ত করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকা স্ট্রিট জার্নালকে (ডিএসজে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ হাজার কর্মী প্রতিষ্ঠানটিতে ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার কর্মীই এককভাবে বাংলাদেশি। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উল্লেখ করেন, অত্যন্ত শক্তিশালী কাজের নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার কারণে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শুধু পুরুষ চালকই নন, বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বাংলাদেশি নারী চালকেরা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এবং সফলভাবে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত আছেন।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চালক নিয়োগের এই ধারাবাহিক উদ্যোগের জন্য দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও এই দ্বিপাক্ষিক নিয়োগের ধারা আরও বেগবান হবে। একই সঙ্গে এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

আলোচনাকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি অনুরোধ জানান, বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত চালকেরা দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর যে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, সেই প্রশিক্ষণকালীন সময়েও যেন তাঁদের নিয়মিত বেতন ও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে নিম্ন-আয়ের কর্মীরা প্রবাসের মাটিতে গিয়ে শুরুতেই কোনো আর্থিক সংকটে পড়বেন না। পাশাপাশি মন্ত্রী শুধু চালক নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশ থেকে ‘হোয়াইট কলার’ বা দক্ষ পেশাজীবী কর্মী, বিশেষ করে ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের দিকেও নজর দেওয়ার জন্য দুবাইয়ের প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

বৈঠকে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে একজন চালক পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই অভিবাসী শ্রমিকদের সিংহভাগই অত্যন্ত দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবার থেকে আসেন, যারা জমি বন্ধক রেখে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রবাসের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। শ্রমিকদের এই মানবিক দিকটি বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে তা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানিতে কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের একমাত্র অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ভবিষ্যতে শুধু চালক নয়, ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক হিসেবেও বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কর্মী নিয়োগের আগ্রহ রয়েছে দুবাইয়ের। এ লক্ষ্যে তারা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদসহ দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top