দেশের সীমিত সম্পদ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি ব্যয় সাশ্রয়ী ও দূরদর্শী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতী’ ফল বয়ে আনতে পারে।
আজ ২ মে ২০২৬, শনিবার এফডিসিতে ‘জীবনযাত্রায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব’ বিষয়ক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ড. ফাহমিদা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, বাজেটে সুনির্দিষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। যেহেতু আমাদের সম্পদ সঞ্চালন কম, সে কারণে ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেট হওয়া জরুরি। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও প্রচুর ঋণ নিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও শুভ নয়। এক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসের চেয়ে আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেন ড. ফাহমিদা। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে এর ফলাফল সাধারণ মানুষ পুরোপুরি পাবে না। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানকে আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সুফল পেতে উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে এসব কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম হয়েছে, যা রোধ করা জরুরি। এছাড়া নিম্নবিত্তের সহায়তায় কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন। সরকার ও বিরোধীদল কেউ কাউকে ব্যর্থ করার চেষ্টা না করে দেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সরকারকে নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে হবে। আগামী বাজেট যেন জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। যাতে নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ না বাড়ে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।
“জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ” শীর্ষক এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আবুল কাশেম ও সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।













