বন্ডের কর সুবিধা প্রত্যাহার: বাজেট নীতিতে বৈপরীত্য প্রকাশ সিএসইর

Web Photo Card June 14 2026 CSEBudgetAnalysis2026
ছবি: সিএসই

প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে করপোরেট বন্ডের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের কথা বলা হলেও অন্যদিকে জিরো কুপন বন্ডের বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সরকারের ঘোষিত বাজার উন্নয়ন নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের এই গুরুতর বৈপরীত্য তুলে ধরেছে। এক্সচেঞ্জটির মতে, বন্ডের কর সুবিধা বাতিল এবং অনাবাসী ব্যক্তির টেকনিক্যাল সেবায় ২০ শতাংশ উৎসে কর ও সফটওয়্যারে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ অর্থমন্ত্রীর ডিজিটালাইজেশন এজেন্ডাকে মাঠপর্যায়ে বাধাগ্রস্ত করবে।

চট্টগ্রামস্থ সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে সাহসী ও সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে সিএসইর মূল লিখিত বক্তব্য ও ৫ দফা সংশোধনী প্রস্তাব পাঠ করেন এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ। সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম ও শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বন্ড মার্কেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কৌশলের বড় ধরনের ঘাটতি তুলে ধরে সিএসই জানায়, দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সুকুক, মিউনিসিপ্যাল ও করপোরেট বন্ডের জন্য বাজেট কাঠামোয় কোনো সুনির্দিষ্ট পেনিট্রেশন কৌশল বা দিকনির্দেশনা রাখা হয়নি। সিএসইর মতে, দেশের টেকসই অর্থায়নের স্বার্থে জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ করপোরেট বন্ড মার্কেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। তা না করে উল্টো জিরো কুপন বন্ডের কর সুবিধা কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর পক্ষ থেকে উত্থাপিত লিখিত বাজেট পর্যালোচনা ও কৌশলগত প্রস্তাবনায় দেশের প্রথম ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ সফল করতে বিশেষ কর ছাড়ের দাবি জানানো হয়। সিএসই জানায়, পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য তারা ইতিমধ্যে কারিগরি ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক সম্পন্ন করেছে। তবে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগে তৈরি হওয়া এই নতুন বাজারটিকে প্রাথমিক ধাক্কা থেকে বাঁচাতে সিএসইর কমোডিটি সেগমেন্টকে আগামী ৫ বছরের জন্য ‘কর অবকাশ’ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।

একই সাথে ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে সিএসই। এছাড়া নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গুণগত শেয়ারের জোগান বাড়াতে তাদের আয় প্রথম তিন বছর সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর থেকে আগের ২০ শতাংশ করের নিয়ম বহাল রাখার দাবি জানিয়ে সিএসই বলে, এটি প্রত্যাহার করা হলে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাপিটাল প্রবাহ থমকে যাবে।

অবশ্য প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বর্তমান টি+২ থেকে ধাপে ধাপে টি+০ বা রিয়াল-টাইম সেটেলমেন্টে নিয়ে যাওয়ার সরকারি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে এক্সচেঞ্জটি। সিএসই জানায়, আইপিও প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং রীটস ও ইটিএফের মতো নতুন পণ্য চালুর বিষয়ে তাদের আধুনিক নেক্সট জেনারেশন ট্রেডিং ইঞ্জিন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারল্য বাড়াতে তারা বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক বাজারের মতো কারিগরিভাবে ‘ইনট্রা ডে সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়া চালু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top