বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে স্থায়ীভাবে রক্ষা এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সাধারণ আমানতকারীরা। বুধবার দুপুরে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে এই স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে আমানতকারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় মদতে এস আলম গ্রুপ প্রক্সি পরিচালকের মাধ্যমে ব্যাংকের পর্ষদ দখল করে নজিরবিহীন ঋণ জালিয়াতি ও লুটপাট চালিয়েছে। ২০২৪ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমানে আবারও ওই অশুভ গোষ্ঠী বা তাদের সহযোগীরা ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তারা দাবি করেন।
গ্রাহকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী আয় আহরণ, শিল্প বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিল। তবে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সুশাসনের চরম অবক্ষয়, ঋণ কেন্দ্রীভূত করা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ফলে ব্যাংকটি বর্তমানে এক গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।
আমানতকারীরা সতর্ক করে বলেন, এস আলম গ্রুপের স্বার্থে ব্যাংকের সম্পদ ব্যবহারের ফলে খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই অশুভ শক্তির পুনরায় ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দেবে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে।
গভর্নরের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে আমানতকারীরা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো—এস আলম গ্রুপ ও তাদের দোসরদের ব্যাংকে পুনঃপ্রবেশ চিরতরে বন্ধ করা। এছাড়া পাচার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধার করে দোষীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—ব্যাংকটির মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইনি সুবিধাগুলো বাতিল করা। আমানতকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাদের কারণে অতীতে ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিল, তাদের পুনরাগমনের সামান্য আশঙ্কা তৈরি হলেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং গণহারে আমানত উত্তোলন শুরু হতে পারে।
তারা গভর্নরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, একটি ব্যাংকের মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের বিশ্বাস। এস আলম গ্রুপ নামের মাধ্যমে এবং বেনামে যে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তা সাধারণ মানুষের আমানত। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে এই বিশাল প্রতিষ্ঠানকে বলি হতে দেওয়া যাবে না।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি কোটি গ্রাহক ও দেশের অর্থনীতির আস্থার প্রতীক। ব্যাংকটিকে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমানতকারীরা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান গভর্নর পেশাদারিত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং পাচার হওয়া প্রতিটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবেন। অন্যথায় গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।













