বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মুনাফার নতুন রেকর্ড গড়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে ২,২৫১ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশীয় ব্যাংকের এক বছরে অর্জিত সর্বোচ্চ নিট মুনাফা। এর আগে কোনো দেশীয় ব্যাংক এক বছরে দুই হাজার কোটি টাকার মুনাফার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির সমন্বিত মুনাফা ছিল ১,৪৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ৮১৯ কোটি টাকা বা ৫৭ শতাংশ। এককভাবেও ব্র্যাক ব্যাংক গত বছর ১,৫৮১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।
রেকর্ড মুনাফার এই বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের সব মিলিয়ে ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। লভ্যাংশ প্রাপ্তির জন্য আগামী ১৭ মে রেকর্ড ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী ১১ জুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আর্থিক সূচক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৯.১২ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬.১৮ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৩৯.৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫১.৫৬ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকের আমানত সংগ্রহেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
২০২৪ সালে আমানত ৭৭ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা থাকলেও ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই তা ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৩ হাজার৭৭২ কোটি টাকায় পৌঁছে।
রেকর্ড মুনাফার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি যেমনই হোক, সব সময় শক্তিশালী সুশাসন ও মজবুত ভিত্তি বজায় রাখে। এর ফলে বছরের পর বছর ব্যাংকটি ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্য মূলত গ্রাহকদের আস্থা, সুশাসন এবং বিচক্ষণ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ ব্যাংকের আয় ও ব্যালেন্স শিট বড় করতে সাহায্য করেছে। কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির ফলে ব্র্যাক ব্যাংক খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকের মুনাফার একটি বড় অংশ বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের কাছে যায়, যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।













