কারখানা সচলের জন্য ঋণের গ্যারান্টি চায় ব্যাংকগুলো

DSJ Web Photo April 22 2026 FinancialNews
ডিএসজে কোলাজ

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি দাবি করেছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ব্যাংকগুলোর প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা ও প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তারা এই দাবি উত্থাপন করেন।

মূলত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণা বাস্তবায়নে একটি কার্যকর নীতিমালা এবং পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের মতামত জানতেই আজকের সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও শর্ত তুলে ধরেন।

ব্যাংকারদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঋণের বিপরীতে পূর্ণ নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি সুবিধা। তারা জানান, বন্ধ কারখানা সচল করতে দেওয়া ঋণ যদি পুনরায় খেলাপি হয়ে পড়ে, তবে ব্যাংক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি প্রয়োজন। এছাড়া নতুন ঋণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি জামানত নিশ্চিত করারও পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাংকাররা।

কারখানাগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদারক করতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা কোম্পানি বন্ধ করে অর্থ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবে না। শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারাই এই সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কারখানা বন্ধের সময়কাল ও যন্ত্রপাতির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বন্ধ হওয়া কারখানার জন্য স্বল্পমেয়াদি এবং যাদের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা থাকবে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে যা সরকারি অর্থায়নে হতে পারে। নীতিমালা ও তহবিলের চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে আগামীকাল সোমবারের মধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সভায় ব্যাংকাররা উল্লেখ করেন যে, নীতি-সহায়তার আওতায় ৩০০ গ্রুপের এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে, যা চালু হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, অনেক বন্ধ কারখানার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা চলমান থাকায় নতুন অর্থায়নে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের বড় একটি অংশ বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাংকগুলো গ্যারান্টি সুবিধা চাচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণের প্রাথমিক ঝুঁকি ব্যাংকগুলোকেই বহন করতে হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top