দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ মাস ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর রেকর্ড গড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে ৩১৩ কোটি ডলারের (৩.১৩ বিলিয়ন) বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এই আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা গত কয়েক মাস ধরেই অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং মার্চ মাসে ৩২৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে রেমিট্যান্স।
গত বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দেশে এসেছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১৩.৬ শতাংশ। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠানোয় এপ্রিলের শেষ দিকে প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ব্যাংকাররা মনে করছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর দাম বেড়েছে, ফলে প্রবাসীরা আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই সময়ে দেশে মোট ২,৯৩৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ২,৪৫৪ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং ডলার বাজারের অস্থিরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকে সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।













