দীর্ঘ আট মাসের টানা নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি খাতে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রপ্তানি আয় কেবল ইতিবাচক ধারায় ফেরেনি, বরং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশের এক বিশাল উল্লম্ফন প্রত্যক্ষ করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহনশীলতার ফলে এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ মোট ৪০১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছরের এপ্রিলে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০১ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩২.৯২ শতাংশ। এমনকি মার্চ মাসের তুলনায়ও এপ্রিলের আয় ১৫.২০ শতাংশ বেশি, যা দেশের বাণিজ্য সচল হওয়ার একটি ইতিবাচক সংকেত।
তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) সামগ্রিক হিসাবে রপ্তানি এখনো আগের বছরের তুলনায় সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ে মোট ৩,৯৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.০২ শতাংশ কম। তা সত্ত্বেও, এপ্রিলের এই বড় প্রবৃদ্ধি অর্থবছরের শেষ নাগাদ বড় কোনো ঘাটতি কমিয়ে আনার জোরালো আশা জাগিয়েছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এপ্রিলে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। মাসটিতে ৩১৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৩১.২১ শতাংশ বেশি। যদিও জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে এই খাতের আয় গত বছরের চেয়ে সামান্য কম, কিন্তু একক মাস হিসেবে এপ্রিলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পুরো শিল্প খাতকে আশাবাদী করে তুলেছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ খাতে ৯৮ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫.৯৫ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে এপ্রিলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫.৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে সামগ্রিক মেয়াদে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও এপ্রিল মাসে এই খাতে রপ্তানি বেড়েছে অভাবনীয় ৬৫ শতাংশ।
রপ্তানি আয়ের এই উত্থানে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের শীর্ষ বাজারগুলো। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে বেড়েছে ২৩ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যের প্রতিটিতেই এই মাসে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পণ্য উৎপাদন ও ক্রয়াদেশ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এপ্রিলের এই উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। এই প্রবৃদ্ধির ধারা আগামী মাসগুলোতে ধরে রাখা সম্ভব হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।













