বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘ সময় ধরে গুটিকয়েক প্রভাবশালী অলিগার্ক বা বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার সচিবালয়ে সম্পাদক ও অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল দর্শন হবে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’।
মন্ত্রী জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত রাখার ধারা ভেঙে অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, ঋণের জন্য সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো কিংবা অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ঝুঁকি নেবে না।
মার্চ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর তথ্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই পথ দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং বেসরকারি খাতকে পঙ্গু করে দেয়। তিনি মনে করেন, পুলিশ দিয়ে নয়, বরং চাহিদা ও জোগানের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
অলিগার্কদের প্রভাবমুক্ত বাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতির কারণে অতীতে অর্থনীতি কিছু মানুষের পকেটে চলে গিয়েছিল। গণতন্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সরাসরি নারীদের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে বর্তমানে বেসরকারি খাত ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চরম চাপে রয়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, নতুন টাকা ছাপানোর অভিযোগটি কেবল ভুলই নয়, বরং পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। গভর্নর ঘোষণা করেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৬০০ কোটি টাকার প্রাথমিক তহবিল নিয়ে আগামী মাসেই ‘স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু করবে।
এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে। গভর্নর আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, আগামী বাজেটের লক্ষ্য হবে বিনিয়োগের আমলাতান্ত্রিক বাধা কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সৃজনশীল খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।













