দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেসরকারি খাতের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে গত ২ এপ্রিল একই সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আজকের নতুন দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে গত ১৮ দিনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়লো ৪৪.৬৬ শতাংশ।
বিইআরসি সচিব নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে এলপিজি আমদানির খরচ ও জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ এবং ডিজেলের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ল। গত ১ এপ্রিল ১২ কেজির যে সিলিন্ডারটি ১,৩৪১ টাকায় কেনা যেত, আজ থেকে সেই একই সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাকে ১,৯৪০ টাকা গুনতে হবে। গৃহস্থালির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই সিলিন্ডারের প্রতি কেজির দাম এখন পড়বে ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা।
সংশোধিত দাম অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৮৯ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২,৪২৫ টাকা এবং ৪৫ কেজির বড় সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৭,২৭৫ টাকা। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
বিইআরসি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। আজকের বড় অংকের এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।













