সরকার যেদিন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় অগ্রগতির খবর জানাল, ঠিক সেদিনই রাজধানীর গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা বলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
একই দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, সমুদ্রপথে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কাঁচামাল সরবরাহ কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোঁজিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রূপপুর প্রকল্পের সুখবর দেন। তিনি জানান, প্রকল্পের উৎপাদন আগামী এপ্রিলে শুরু হতে যাচ্ছে এবং জুন-জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল ও এলএনজি সংগ্রহের প্রচেষ্টার কথাও এদিন জানান মন্ত্রী। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “রাশিয়ার তেল ও এলএনজি—সবই আছে। আমরা বিকল্প উৎস হিসেবে দেশটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। জ্বালানি একটি বড় বিষয়। এ ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের কী সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা আমরা দেখছি। কিন্তু এখানে কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যু আছে।”
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ছাড়ের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটা চেয়েছি।”
এর আগে বুধবারও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এই ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি। রাশিয়ার তেল দেশে পরিশোধন করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে সব ধরনের সমাধানের পথ খুঁজছে।
স্থলভাগে যখন পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার নগর ভবনে কোরিয়া ভিত্তিক বি এন্ড এফ কোম্পানির সঙ্গে এক বৈঠকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে’ রূপান্তরের মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে ল্যান্ডফিল গ্যাস ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন সংগ্রহের মাধ্যমে ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং সৌরশক্তি থেকে আরও ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ঢাকার প্রতিদিনের প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি উৎপাদনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সমান্তরালে আমদানিকৃত কাঁচামালের সরবরাহ পথ সুরক্ষিত রাখতে বঙ্গোপসাগরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
এলএনজি, এলপিজি ও ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বর্তমানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, দ্রুতগামী বোট, মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট এবং হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং গভীর সমুদ্রে নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
নৌবাহিনী বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সাধন করে কাজ করছে, যাতে দেশের জ্বালানি আমদানি ও পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।













