ট্রেডিং ফ্লোরে নীরবতার মাঝে যখন কোটি কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়, তখন সেই লেনদেনের অদৃশ্য ‘মাঠকর্মী’ হলো ম্যাচিং ইঞ্জিন। ডিএসইর ধমনীতে রক্তপ্রবাহের মতো এই ইঞ্জিনটিই ঠিক করে কে কত দ্রুত শেয়ার কিনবে বা বিক্রি করবে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এই ‘হৃৎপিণ্ড’ প্রতিস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দুটি কোম্পানিতে আটকে ছিল এর পরিচালনা পর্ষদ।
১৬০ কোটি টাকা বাঁচিয়ে একটি অনিশ্চিত পাকিস্তানি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে, ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বখ্যাত নাসডাকের মাধ্যমেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) পর্ষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আগামী এক দশকের প্রযুক্তিগত পথচলা নিশ্চিত হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল। এটি কেবল একটি সফটওয়্যার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রশ্নে এক আপসহীন লড়াইয়ের জয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা বর্তমানে নাসডাকের পুরনো সংস্করণের ম্যাচিং ইঞ্জিন দিয়ে লেনদেন ব্যবস্থা চালায়, যার বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছরই শেষ হয়ে যাবে। আর নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন ইনস্টল এবং পুরো সিস্টেম মাইগ্রেশন করতে সাধারণত ৯-১২ মাস সময় লাগে। এ হিসেবে ম্যাচিং ইঞ্জিনের জন্য নতুন ভেন্ডর ঠিক করতে হাতে সময় আছে মাত্র নয় মাস। এমন পরিস্থিতিতে সময়ের সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক (জিওপলিটিক্যাল) চাপ—এই তিনটি চ্যালেঞ্জ একসাথে ডিএসইর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিকে পছন্দসই ম্যাচিং ইঞ্জিন বেছে নেওয়ার সুযোগও ডিএসইর হাতে তেমন একটা নেই। ম্যাচিং ইঞ্জিন বানায় পৃথিবীতে হাতেগোনা যে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য কোম্পানি আছে এবং যারা দ্রুত উচ্চমানের প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে তারা সব সময়ই ব্যয়বহুল। তবে ডিএসইর জন্য সমস্যাটা আরও প্রকট। ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরিতে পৃথিবীতে যে তিনটি প্রতিষ্ঠান শীর্ষে রয়েছে, তাদের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিএসইকে ম্যাচিং ইঞ্জিন বানিয়ে দিতে পারবে না। ফলে বাংলাদেশের হাতে সেরা কোম্পানির ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সুযোগ আছে শুধু নাসডাকের।
বিশ্বজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ম্যাচিং ইঞ্জিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম স্তরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক এবং লন্ডনের মিলেনিয়াম আইটি (এলএসইজি)। বিশ্বের ১০০-এর বেশি প্রধান এক্সচেঞ্জ এদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এদের ইঞ্জিন মাইক্রো-সেকেন্ডে লাখ লাখ অর্ডার প্রসেস করতে সক্ষম এবং সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে এগুলো সব দেশেই ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। নাসডাকের নতুন আপডেটেড সংস্করণ নিতে হলে ডিএসইকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে, যার মেয়াদ হবে ১০ বছর।
দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জ যারা নিজেদের তৈরি প্রযুক্তি অন্য দেশে বিক্রি করে। যেমন, চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ (এসজেডএসই)। পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে এই স্তরের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কয়েক দশক ধরে প্রমাণিত।
তৃতীয় স্তরে রয়েছে পাকিস্তানের ইনফোটেকের মতো ছোট ফিনটেক কোম্পানি। এরা মূলত ব্যাংক বা ছোট প্রতিষ্ঠানের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার তৈরিতে অভ্যস্ত। বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক কোনো বড় স্টক এক্সচেঞ্জে এদের তৈরি ম্যাচিং ইঞ্জিনের কোনো সফল ট্র্যাক রেকর্ড নেই। আফ্রিকার ১২টি স্টক এক্সচেঞ্জ এদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ডিএসই যদি ইনফোটেকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নিতে চায়, তবে ১০ বছরে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
ডিএসইর আর্থিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ হিসাববছরে স্টক এক্সচেঞ্জটি প্রায় ৫০ কোটি টাকার পরিচালন লোকসান করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪১ শতাংশ বেশি। কয়েক বছর ধরেই স্টক এক্সচেঞ্জটি ব্যাংকে রাখা আমানতের সুদ আয় দিয়েই দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনা ও শেয়ারহোল্ডারদের নামমাত্র লভ্যাংশ দিচ্ছে। মূলত ২০১০ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি যেমন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করছে, তেমনি স্টক এক্সচেঞ্জটির আয়ও তলানিতে নামিয়েছে। এমন ভগ্ন দশায় নাসডাকের ৩০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট নেওয়া ডিএসইর জন্য চ্যালেঞ্জিং।
এই আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়েই পর্ষদের একটি অংশ ইনফোটেকের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেয়। তাদের যুক্তি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বিচারে ইনফোটেকের সাশ্রয়ী ম্যাচিং ইঞ্জিনই কাজ চালিয়ে নিতে পারবে। কোম্পানিটির প্রযুক্তি ডিএসইর বিভিন্ন পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ইনফোটেকের প্রযুক্তিতে সন্তুষ্ট থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের এবং আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু কূটনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর আস্থার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ডিএসই ট্রেডিং সিস্টেমের ‘ম্যাচিং ইঞ্জিন’ কেবল অর্ডার মিলানোর যন্ত্র নয়, এটি দেশের জাতীয় আর্থিক ডেটার সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
ডিএসইর পরিচালক সাজেদুল ইসলাম ডিএসজেকে বলেন, “নাসডাকের সঙ্গে ইনফোটেকের তুলনা চলে না। তবে আমাদের প্রেক্ষাপটে নাসডাক তো অবশ্যই চলে, ইনফোটেকও চলে। সব ধরনের টেস্টেও ইনফোটেক উত্তীর্ণ হয়েছে। একমাত্র ভূ-রাজনৈতিক কারণ ছাড়া আর কোনো কারণই নেই ইনফোটেককে বাদ দেওয়ার। এখন পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কারও যুদ্ধ বেধে যায়, তখন কী হবে—শুধুমাত্র এই একটা জায়গায়ই আটকে আছে।”
ডিএসইর প্রভাবশালী পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন জানান, “নিরাপত্তা বিবেচনায় আমরা ইনফোটেকের সঙ্গে একটি যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছিলাম, যেখানে তারাও রাজি। এর ফলে যেটা হতো, নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠত না, আবার বাংলাদেশে এই সেক্টরে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কোম্পানিও গড়ে উঠত। সিসিবিএলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানিই করতে পারত।”
এর আগে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ পিএলসি (সিসিবিএল)-এর ক্লিয়ারিং সফটওয়্যার ও ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য ভারতের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) সঙ্গে ১৩৫ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলারের লেটার অব ইনটেন্ট হলেও ২০২৫ সালের মে মাসে তা বাতিল করা হয়। এই উদ্যোগ বাতিলে ভূমিকা রেখেছিল সিসিবিএলের প্রধান স্টেকহোল্ডার ডিএসই। টাটাকে দেওয়া ক্লিয়ারিং সফটওয়্যার ও ডাটা সেন্টার স্থাপনের ব্যয় অনেক বেশি বলে উদ্যোগটি বাতিলের দাবি জানায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ, যা পরে সিসিবিএল কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করে।
ডিএসইর বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং ভবিষ্যতের সক্ষমতা বিবেচনায় নাসডাক বনাম ইনফোটেকের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ডিএসইর পরিচালকরাও তা স্বীকার করেন। নাসডাকের ‘এক্স-স্ট্রিম’ বা আধুনিক ‘এনএফএফ’ ফ্রেমওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে স্বীকৃত। এটি মাল্টি-অ্যাসেট ক্লাসের জন্য ডিজাইন করা, যা একই সাথে ইকুইটি, ডেরিভেটিভস, ফিউচার এবং কমোডিটি হ্যান্ডেল করতে সক্ষম। এর হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং (এইচএফটি) সক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রোটোকল আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বিপরীতে, ইনফোটেকের প্রযুক্তি মূলত আঞ্চলিক ব্যাংকিং বা সরকারি ডিজিটালাইজেশনের জন্য তৈরি, যার স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা বা হাই-ভলিউম ম্যাচিং ইঞ্জিনের কোনো প্রমাণিত বৈশ্বিক কেস স্টাডি নেই। নাসডাকের প্রযুক্তি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শতভাগ আস্থার প্রতীক। বিপরীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফোটেকের ব্র্যান্ড ভ্যালু নাসডাকের তুলনায় অতি নগণ্য। ডেরিভেটিভস ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জের জন্য নাসডাকের রয়েছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি। অপরদিকে জটিল আর্থিক পণ্যের ক্ষেত্রে ইনফোটেকের দীর্ঘমেয়াদি সফলতার ট্র্যাক রেকর্ড সীমিত।
ডিএসইর বর্তমান সিস্টেমের সাথে নাসডাকের প্রযুক্তি মাইগ্রেশন অনেক সহজ। এ ছাড়া, দেশের আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা ও সাইবার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নাসডাকের মতো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।
ম্যাচিং ইঞ্জিন সংক্রান্ত ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনের সব তুলনাতেই নাসডাককে এগিয়ে রেখেছে। মূল্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ইনস্টলেশন সময় ইত্যাদি সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নাসডাকের চেয়ে ২০ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ইনফোটেক। বিশ্বের সেরা ৪৫টির বেশি স্টক এক্সচেঞ্জে নাসডাকের প্রযুক্তি চলে, যেখানে আফ্রিকার ৯টির বেশি উদীয়মান বাজারে ইনফোটেকের ম্যাচিং ইঞ্জিন চলছে। তবে ডিএসইর ক্ষেত্রে এই দুই প্রযুক্তির মূল্যের পার্থক্য ১৪০ কোটি টাকারও বেশি। ম্যাচিং ইঞ্জিন প্রতিস্থাপনে নাসডাক ও ইনফোটেক—দুটি প্রতিষ্ঠানই ৯ মাস সময় চেয়েছে।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ (পিসিএক্স) হচ্ছে চীনের একমাত্র উদাহরণ, যেখানে পূর্ণাঙ্গ ট্রেডিং ব্যবস্থা বা ম্যাচিং ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়েছে। মূলত বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রযুক্তি সহযোগিতা (বিআরআই), চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর ও পিসিএক্সে চীনা কনসোর্টিয়ামের মালিকানা প্রায় ৪০ শতাংশ—এসব বিবেচনায় শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ পাকিস্তানকে পূর্ণাঙ্গ ম্যাচিং ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে।
বাংলাদেশও বিআরআই-এর অংশ। আবার ডিএসইতে চীনা কনসোর্টিয়ামের মালিকানাও রয়েছে। ২০১৮ সালে চীনা কনসোর্টিয়াম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডিএসইকে ৩৩ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, যেখানে ডিএসইকে উন্নতমানের ট্রেডিং সিস্টেম দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। তারপরও চীনের ম্যাচিং ইঞ্জিন কেন পায়নি বাংলাদেশ—এমন প্রশ্ন এখন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
মিনহাজ মান্নান ইমন ডিএসজেকে জানিয়েছেন, ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হলেও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ২৭ মাসের আগে ইঞ্জিনটি সরবরাহ করতে পারবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। এমনকি ওই সময়ে ইঞ্জিনটির মূল্য কত হবে, সেটাও তারা জানাতে চায়নি। অথচ আমাদের বর্তমানের ম্যাচিং ইঞ্জিনটির বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছরই শেষ হয়ে যাবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ডিএসজেকে বলেন, “আমাদের পছন্দ ছিল শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার। কিন্তু তারা টেকনিক্যাল কারণে সেটি আমাদের দিতে পারছে না। এরপর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু তাদের অনেক সময় লাগবে। এখন আমাদের কাছে দুটি অপশন আছে—নাসডাক ও পাকিস্তানের ইনফোটেক। দুটিই বিবেচনায় আছে। তবে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্রোকার হাউসগুলোর মতামত এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, নাসডাকের নতুন আপডেটেড সংস্করণ নিতে হলে ডিএসইকে বছরে ২৫ কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে হবে এবং এটি ১০ বছর মেয়াদি। আর যদি পাকিস্তানের ইনফোটেক কোম্পানির ম্যাচিং ইঞ্জিন নেয়, তাহলে বছরে ১৩.৩৩ কোটি টাকা খরচ হবে, যেটি ৫ কিংবা ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি করা যায়।
বর্তমানে নাসডাকের পুরনো সংস্করণের মাধ্যমে ডিএসইর লেনদেন ব্যবস্থা সচল রয়েছে। ২০২৪-২৫ হিসাববছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের জন্য সার্ভিস ও লাইসেন্স ফি বাবদ নাসডাককে প্রায় ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করে ডিএসই। এ বছরে সফটওয়্যার ও লাইসেন্স মেইনটেন্যান্সের জন্য সর্বমোট ৩৭ কোটি টাকা খরচ করতে হয় ডিএসইকে।
অপরদিকে দেশের চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের ম্যাচিং ইঞ্জিনের জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের মিলেনিয়াম আইটিকে ২০২৪-২৫ হিসাববছরে ৫.১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এ বছরে সফটওয়্যার ও লাইসেন্স মেইনটেন্যান্সের জন্য সর্বমোট ১০.৭৭ কোটি টাকা খরচ করতে হয় সিএসইকে। সাধারণত ডিএসইর লেনদেনের ১০ শতাংশেরও কম হয় সিএসইতে।
ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় ডিএসইর অধিকাংশ পরিচালক ইনফোটেকের প্রযুক্তি নেওয়ার পক্ষে থাকলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এর বিপরীতে। ডিএসই পরিচালক হানিফ ভূঁইয়া ডিএসজেকে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের দুটি সভায় ম্যাচিং ইঞ্জিন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যয় বেশি হলেও তারা কোয়ালিটির বিষয়ে আপস করবেন না জানিয়ে সবাই নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।”
সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি পেতে যাচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। আগামী রবিবারই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক। তিনি জানান, অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার উচ্চমূল্য সত্ত্বেও নাসডাক প্রযুক্তি কেনার পক্ষেই দৃঢ় মত দিয়েছেন। আর ডিএসই পর্ষদও শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।













