বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণ চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী জুনের মধ্যে স্থগিত থাকা কিস্তিসহ ঋণের ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকার সক্রিয় রয়েছে। যদিও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, তবে নতুন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে আইএমএফ।
এর পাশাপাশি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি (২০ মার্চ) রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বর্তমানে আইএমএফের ঋণের কিস্তি পাওয়া এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
একইদিন জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, তবে যুদ্ধের আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক পাম্পে সাময়িক সংকট অনুভূত হচ্ছে। তিনি জনসাধারণকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগের দিন চট্টগ্রামে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের চাপের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে রমজান ও ঈদে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকায় ঈদযাত্রা সহজতর হয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের মাত্রা বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং মার্চের প্রথম ২২ দিনে মোট ২৫টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস করা হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক সংকটের কথা মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে সরকারি অফিস ও ব্যাংক-বিমায় কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। রমজানের বিশেষ সময়সূচি পরিবর্তন করে অফিসগুলো পুনরায় সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলছে।













