ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে দপ্তর বণ্টনের শুরুতেই। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির গুরুদায়িত্ব নিয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই রাজনীতিবিদ পেশাগত জীবনে পারিবারিক ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন। এর বাইরেও আমির খসরু চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
একই ধারায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মতো তিনটি বিশাল দপ্তরের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। ছয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের এই মালিক সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি। অন্যদিকে, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, যাঁর প্রধান কাজ হবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনিও পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। এ ছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তরুণ রাজনীতিক জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
পুরো মন্ত্রিসভার দিকে তাকালে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের এক বিশাল বহর চোখে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর গঠিত এই সরকারে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলাবেন সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারে হাল ধরেছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেখানে তাঁকে সহায়তা করবেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করবেন ফকির মাহবুব আনাম।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে পূর্ণমন্ত্রীদের পাশাপাশি একঝাঁক প্রতিমন্ত্রীকেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন নুরুল হক নুর। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করবেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং তাঁকে সহযোগিতায় থাকবেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়াও গৃহায়ন ও গণপূর্তে জাকারিয়া তাহের, ভূমিতে মিজানুর রহমান মিনু এবং তথ্য ও সম্প্রচারে জহির উদ্দিন স্বপন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আসাদুল হাবিব দুলু জনসেবার মূল দায়িত্বে থাকছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ জন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন। মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে। পুরো এই টিমের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।













