ঋণের তথ্য গোপনে এগিয়ে কুমিল্লার প্রার্থীরা

ডিএসজে কোলাজ
ডিএসজে কোলাজ

ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন অন্তত আটজন সংসদ প্রার্থী। এর মধ্যে চারজনই কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থী।

উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিলেও সেই তথ্য তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেননি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপিত নথিতে এসব প্রার্থীর খেলাপি ঋণের বিস্তারিত তথ্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

স্থগিতাদেশ থাকলেও হলফনামা ফাঁকা

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রেদওয়ান আহমেদ এর অন্যতম উদাহরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সালেহা ডাইং অ্যান্ড ওয়াশিং লিমিটেড নামে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশনে (বিআইএফসি) ৪১ লাখ টাকা খেলাপি।

খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না। অথচ ঋণের টাকা ফেরত না আসায় বিআইএফসি ইতিমধ্যেই দেউলিয়া হয়ে পড়েছে এবং অবসায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া রেদওয়ান আহমেদ আইএফআইসি ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকার একটি নন-ফান্ডেড ঋণে গ্যারান্টার।

এই খেলাপি অবস্থার কারণে তিনি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিলেও, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার ৯ নম্বর ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখেছেন। অথচ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের তথ্য গোপনের সুযোগ নেই।

ঋণ খেলাপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা কুমিল্লা-৪ আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হলফনামায় বাস্তবতার উল্টো তথ্য দিয়েছেন।

একইভাবে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক—দুজনেই উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিলেও হলফনামায় খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করেছেন।

স্ত্রীর খেলাপি ঋণও গোপন

আইনের আরও বড় লঙ্ঘন করেছেন ভোলা-২ আসনের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীম। নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের ঋণের তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও, তিনি তা গোপন করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী মাফরুজা সুলতানা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১০৯ কোটি টাকা খেলাপি, যার কোনো উল্লেখ নেই হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তালিকায় আরও রয়েছেন সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুস্তাকিম রাজা চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী এবং চাঁদপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর হুদা। তাদের সবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে খেলাপি ঋণের তথ্য থাকলেও, তা হলফনামায় অনুপস্থিত।

টিআইবি যা বলছে

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “কেউ ঋণ খেলাপি হলে, স্থগিতাদেশ থাকুক বা না থাকুক—তথ্য অবশ্যই হলফনামায় দিতে হবে। তথ্য গোপন করলে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিল ও আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্ত্রী-সন্তানদের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top