ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আজ (১২ জানুয়ারি) অনুমোদন পেতে যাচ্ছে দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন গত ৫ জানুয়ারি ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপি চূড়ান্ত করে।
সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।
সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ৭৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৫ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় বরাদ্দ কমেছে ২৯ শতাংশ, বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, নৌ-পরিবহনে ৩৬ শতাংশ এবং রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ।
অন্যদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ৮ শতাংশ। সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশ।
নগর পরিবহন খাতে বড় ধাক্কা এসেছে মেট্রোরেল প্রকল্পে। মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি এবং মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কের ওপর মেঘনা-ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ।
সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৪১ শতাংশের বেশি এবং নগর জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মসূচি বাতিল হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রকল্প সময়মতো পাঠানো হয়নি। ফলে অনুমোদন বিলম্বিত হয়েছে এবং কাটছাঁট বেশি হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো ‘নিরাশাজনক’। তাঁর মতে, এসব খাতে ব্যয় বাড়ালে মানবসম্পদ উন্নয়ন তরান্বিত হয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে অতিরিক্ত সম্পদ পৌঁছায়।













