ছবি: ডিএসজে ইলাস্ট্রেশন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে টানা চার দিন পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও ঘোষণার পর টানা তিন দিন ব্যাপক দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুঁজিবাজার বিষয়ক সাংবাদিক আলতাফ মাসুদ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এই প্রতিবেদককে বলেন, “তফসিল ঘোষণার পরপরই ঢাকার মতো জনবহুল শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন আলোচিত প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর প্রতিফলন বাজারের সূচক ও লেনদেনের পরিমাণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, তফসিল ঘোষণার পরের দিনই (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি; যিনি আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।
ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের প্রধান সম্পাদক বলেন, “তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা ও সম্ভাবনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তা বড় ধাক্কা খেয়েছে। এরপর প্রতিদিনই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। অথচ তফসিল ঘোষণার দিনেও বাজার ইতিবাচক ছিল। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ডিএসইএক্স (ডিএসই ব্রড ইনডেক্স) ওঠানামা শুধু অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেরও প্রতিফলন।”
তফসিল ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবস থেকেই ডিএসইতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়। দেশের এই প্রধান পুঁজিবাজারে টানা তিন কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণে বড় ধরনের পতন ঘটে। ১৪ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ৩০.৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪,৯৩২.৯৬ পয়েন্টে। ১৫ ডিসেম্বর সূচক আরও ৪২.৯২ পয়েন্ট কমে ৪,৮৯০.০৪ পয়েন্টে নেমে যায়। ১৭ ডিসেম্বর সূচক আবার ৩৬.১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪,৮৫৩.৯১ পয়েন্টে। অর্থাৎ তিন কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক মোট ১০৯.৯২ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনের পরিমাণও প্রতিদিন কমে গিয়ে ৪৫৭ কোটি থেকে নেমে ৩৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার দিনসহ পূর্ববর্তী তিন কার্যদিবসে বাজারে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ৮ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ৩৩.৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৯০৬.২৯ পয়েন্টে। ৯ ডিসেম্বর সূচক একদিনেই ৫৬.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৪,৯৬২.৯০ পয়েন্টে পৌঁছায়। ১০ ডিসেম্বর সূচক আরও ২১.০৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৯৪১.৮৪ পয়েন্টে। আর ১১ ডিসেম্বর সূচক ২১.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪,৯৬৩.৮৩ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
ওই চার কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক মোট ১৩৩.৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল। লেনদেনের পরিমাণও প্রতিদিনই উচ্চ অবস্থানে ছিল—৩৬৪ কোটি থেকে ৫৩৩ কোটি টাকার মধ্যে।













